
কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং-শামলাপুর সংযোগ সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী ও পর্যটকেরা। বারবার সংস্কার করা হলেও নিম্নমানের কাজের অভিযোগে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে একদিকে যাতায়াতের সময় দ্বিগুণ হয়েছে, অন্যদিকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহনকে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা বলেন, আগে হোয়াইক্যং থেকে শামলাপুর যেতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগলেও সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় এখন আধা ঘণ্টা লাগে। সম্প্রতি সড়কটিতে একটি নতুন সেতু নির্মাণ করা হলেও সেটিরও এক পাশ ভেঙে গেছে। এর পাশাপাশি সড়কটিতে প্রায়ই ডাকাতির ঘটনা ঘটায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বলে জানান তারা।
স্থানীয়রা জানান, হোয়াইক্যং-শামলাপুর সড়কটি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন শত শত মানুষ কর্মস্থলসহ নানা প্রয়োজনে এ পথে যাতায়াত করেন। শামলাপুরে মেরিন ড্রাইভ ও সমুদ্রসৈকত থাকায় পর্যটকেরাও সড়কটি ব্যবহার করেন। এ ছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এনজিওর কর্মীদের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম এটি। কিন্তু সংস্কারের পরও সড়কটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে। নিম্নমানের কাজের কারণেই বারবার সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খালেদ চৌধুরী জানান, হোয়াইক্যং-শামলাপুর সড়কে প্রতিবছর সংস্কারকাজ করা হয়। তবে সড়কটির উন্নয়নে একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সড়কটি ১২ ফুট থেকে ১৮ ফুটে প্রশস্ত করা হবে। পাশাপাশি সড়কের সেতু ও কালভার্টগুলো নতুন করে নির্মাণ করা হবে। এসব কাজ সম্পন্ন হলে সড়কটির সমস্যা থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, নিম্নমানের কাজ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের নিয়মিত নির্দেশনা দেওয়া হয়। সড়কের যেসব অংশ ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে, সেগুলো পরিদর্শনে কর্মকর্তাদের পাঠানো হবে। তাঁদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।